গতকাল রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশে পণ্য পরিবহন খরচ, যাত্রীবাহী গাড়ির ভাড়া ও মূল্যস্ফীতিও বেড়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানি বিভাগের পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ডিজেলের বিক্রয়মূল্য লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০, পেট্রল ১৩৫ ও কেরোসিনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩০ টাকা।

আগে ডিজেলের দাম ছিল লিটারপ্রতি ১০০ টাকা। ফলে ডিজেলে দাম বেড়েছে লিটারে ১৫ টাকা, পেট্রলের দাম ১১৬ থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। এতে লিটারে বেড়েছে ১৯ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ লিটারে বেড়েছে ২০ টাকা। আর কেরোসিনের দাম ১১২ থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা করা হয়েছে। এতে লিটারে কেরোসিনের দাম বেড়েছে ১৮ টাকা।

 

দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ডিজেল। বিশেষ করে পরিবহন, কৃষি ও জাহাজ চলাচলে এর ব্যবহার বেশি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে ক্রুড অয়েল আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি বাড়িয়েছে সরকার। এতে বাড়তি দামে তেল কিনতে গিয়ে বিপুল পরিমাণের ভর্তুকির কথা জানায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম গত ২৭ মার্চ জানান, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রতিদিন জ্বালানি তেলে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এ হিসাব ধরলে মাসে জ্বালানি তেলে বর্তমানে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি লাগছে।

জ্বালানি বিভাগের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির কথা তুলে ধরা হচ্ছে। এর মধ্যে ৯ এপ্রিল জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে সরকারকে প্রতি মাসে আড়াই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। দেশের নাগরিকদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সরকার জ্বালানি সরবরাহ ঠিক রাখতেই এ ভর্তুকি চালিয়ে যাচ্ছে।